যেখান থেকে শুরু: রিসার্চের প্রথম দিনগুলো
একক অর্থায়ন ছাড়া একটা পূর্ণাঙ্গ ডকুফিল্ম — সম্ভব কি না, নিজেরাই জানতাম না। প্রথম মাসের আর্কাইভ ঘাঁটাঘাঁটি, সাক্ষাৎকারের তালিকা আর যে সিদ্ধান্তগুলো ছবিটার চরিত্র ঠিক করে দিল...
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের গল্প — রাজা, মন্ত্রী, সেনাপতির চোখে নয়; আপামর জনতার চোখে। চট্টগ্রামের একদল তরুণের নির্মিত, গণ-অর্থায়নে তৈরি ডকুফিল্ম।
ফুল স্ক্রিনে দেখার পরামর্শ রইল · সাউন্ড অন করুন
জুলাইয়ের অংশীদার অনেকেই। আপাতদৃষ্টিতে ঐক্য সত্ত্বেও সবার গল্প ধীরে ধীরে ভিন্নতা পাবে — অভ্যুত্থানের পরই তা নিশ্চিত ছিল। আমরা চেয়েছি গণমানুষের জুলাই নিয়ে কাজ করতে।
সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট — কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কাছ থেকে পয়সা নেব না। আর্থিক সহায়তা করলে বয়ানে হস্তক্ষেপের প্রশ্ন আসে; আমরা চাইনি সেটা হোক। গত বছরের জানুয়ারি থেকে রিসার্চ শুরু। অর্থায়নের জন্য অনলাইনে প্রচারণা চালিয়েছি, বের করেছি একটি ম্যাগাজিন — বোধ সংযোগ। ছবি শ্যুট করেছি ক্লাস আর পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে; কুরবানির সময় থেকে একটানা এডিট করে কাজ শেষ করেছি।
"ইতিহাসের ভাষ্য তৈরি করতে প্রথমেই প্রয়োজন রাজা, মন্ত্রী, সেনাপতি এদের সরিয়ে সেইসব সাধারণ, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ঘটনায় মনোনিবেশ করা, যেগুলো সাধারণ মানুষকে তাড়িত করেছিল।"
অভ্যুত্থান ছিল স্বতঃস্ফূর্ত জনবিস্ফোরণ। কিন্তু অভ্যুত্থানের অর্জনকে টেকসই করতে প্রয়োজন শিল্প-সাহিত্যে তাকে ধরে রাখা। প্রচুর গল্প, উপন্যাস, সিনেমা ও সাংস্কৃতিক কাজ হওয়া চাই। এই ছবি সেই বড় দেয়ালে একটা ইটের গাঁথুনি মাত্র।
রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশগুলো এই ছবি করার চেষ্টা করেছে আপামর জনতার জায়গা থেকে। উত্তর চাপিয়ে না দিয়ে — প্রশ্নগুলোকে সামনে রেখে।
জুলাই কি কোনো মেটিক্যুলাস প্ল্যানের অংশ?
এর পেছনে মার্কিন অর্থায়ন ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করেনি — আমরা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারি?
এটি কি ৭১-এর ধারাবাহিকতা, নাকি জুলাই ও ৭১ একে অপরের পরিপন্থি?
জুলাই নিয়ে আশাবাদী হবার সুযোগ কই?
অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনতার অধিকাংশ কি ডানপন্থী ছিল? তাহলে এর অর্থ কী দাঁড়ায়?
শেখ হাসিনাকে হটিয়ে আমরা আদৌ নতুন কিছু কি পেলাম?
তবে একটা ছবি একাই গোটা অভ্যুত্থানকে ডিফেন্ড করবে — এমনটাও নয়। ভাঙচুর আর কোলাহলের রাজনীতি দিয়ে অভ্যুত্থানের অর্জন টেকানো যাবে বলে আমরা মনে করি না।
একক অর্থায়ন ছাড়া একটা পূর্ণাঙ্গ ডকুফিল্ম — সম্ভব কি না, নিজেরাই জানতাম না। প্রথম মাসের আর্কাইভ ঘাঁটাঘাঁটি, সাক্ষাৎকারের তালিকা আর যে সিদ্ধান্তগুলো ছবিটার চরিত্র ঠিক করে দিল...
পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে সোজা শ্যুটে। শহিদ পরিবার, আহত যোদ্ধা, দেয়ালের গ্রাফিতি — জনতার জুলাইকে ফ্রেমে ধরার চেষ্টায় যা যা শিখলাম, যেখানে যেখানে আটকে গেলাম...
শত ঘণ্টার ফুটেজ থেকে একটা ছবি। কোন গল্প থাকবে, কোনটা কেটে ফেলতে হবে — এডিট টেবিলে জুলাইকে নতুন করে আবিষ্কার করার অভিজ্ঞতা...
এই ছবি আমরা নিয়ে যেতে চাই মাঠে-ঘাটে-মফস্বলে — অভ্যুত্থানকারী সেই সকল সাধারণ নাগরিকের কাছে।
'জুলাই ডায়েরিজ' নির্মিত হয়েছে একক অর্থায়নের বাইরে গিয়ে; প্রদর্শনীতেও সেই ধারা অক্ষুণ্ণ থাকবে। জুলাইয়ের গ্রাফিতি ও স্লোগানে ওঠা দাবিগুলো সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই যত বেশি সম্ভব উন্মুক্ত প্রদর্শনী।
ফর্মটি পূরণ করুন — আমরা দ্রুত যোগাযোগ করব।
* ডেমো ফর্ম — আপনার ইমেইল/ফর্ম সার্ভিস যুক্ত করে নিন
আপনার প্রদর্শনীর অনুরোধ আমরা পেয়েছি।
জনতার জুলাইয়ের এই যাত্রায় অংশীজন হওয়ায় কৃতজ্ঞতা।
ছবির অর্থায়নের জন্য আমরা বের করেছি একটি ম্যাগাজিন — বোধ সংযোগ। বিক্রি করে পয়সা তোলার যতটা না ইচ্ছা ছিল, তার চেয়ে বেশি উদ্দেশ্য ছিল: কেউ আর্থিক সহায়তা করলে তাকে এক কপি উপহার দেওয়া।
এই ম্যাগাজিন গণ-অর্থায়নের সেই মডেলেরই অংশ, যার ওপর দাঁড়িয়ে 'জুলাই ডায়েরিজ' নির্মিত — কারো কাছে বয়ান বন্ধক না রেখে।
এক কপি সংগ্রহ করুন